আমাদের সম্পর্কে
শান্তি মিশন ক্যাডেট একাডেমী পরিচিতি
সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য। মহান আল্লাহর অশেষ কৃপায় কোমলমতি শিশুদের সুশিক্ষা প্রদানের জন্য এবং দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার, বহরপুরের শান্তি মিশনে ২০২৬ সালে ড.মোঃ আব্দুল হাকিমের @ ড. নিম হাকিমের একান্ত প্রচেষ্টায় শান্তি মিশন ক্যাডেট একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যা ইতোমধ্যে একটি আন্তর্জাতিক মানের স্কুল হিসেবে অত্র এলাকায় পরিচিতি লাভ করেছে। আধুনিক নগরায়নের সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত গ্রামীন অঞ্চলে সন্তোষজনক বৈজ্ঞানিক ও মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বড়ই অভাব। আমরা আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে, শান্তি মিশন ক্যাডেট একাডেমি আধুনিক শিক্ষার যাবতীয় সুবিধাসহ আপনার সন্তানকে দিচ্ছে আনন্দের মধ্য দিয়ে শিক্ষার সুনিশ্চয়তা। আমরা মানসম্মত শিক্ষক ও মানসম্মত শিক্ষাপদ্ধতি নিয়ে আমাদের অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছার জয়যাত্রা অব্যাহত রেখেছি।
একটি শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশের ক্ষেত্রে পারিবারিক, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। এক্ষেত্রে আমাদের অসচেতনতার ফলে আমরা নিজেরাই বিরাট সম্ভাবনাময় শিশুর জীবন ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছি। জন্মের পরপরই একটি শিশু তার পারিপার্শ্বিকতাকে অনুকরণ করতে শুরু করে। কাজেই পরিবারের বড়দের হতে হয় ভদ্র, মার্জিত, শিক্ষিত ও সচেতন। শিশুর জীবনের একটি বিশেষ স্তরে তাকে সামাজিক আচার-আচরণ ও নিয়ম-কানুন শিক্ষা দেয়া উচিত। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ক্ষেত্রে আমাদের দেশের বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেশ পিছিয়ে রয়েছে। কাজেই উপরোক্ত সমস্যার পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত তিন প্রকার শিক্ষার সমন্বয়ে শিশুর পরিপূর্ণ জীবন বিকাশের অভিপ্রায়ে শান্তি মিশন ক্যাডেট একাডেমির আত্মপ্রকাশ। জাতীয় শিক্ষাক্রমের প্রতি লক্ষ্য রেখে কিছু পরিবর্তন ও সংযোজন সহ আমরা আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন কারিকুলাম অনুসরণ করে থাকি যাতে শিক্ষার ক্ষেত্রে জাতীয় চাহিদা পূরণ করা যায়। উন্নত বিশ্বের অত্যাধুনিক শিক্ষা পদ্ধতির সাথে সংগতি রেখে শান্তি মিশন ক্যাডেট একাডেমি পরিচালিত। শান্তি মিশন ক্যাডেট একাডেমিতে বর্তমানে বাংলা মাধ্যমে শিক্ষাক্রম চালু রয়েছে। English Medium চালু প্রক্রিয়াধীন।
আমাদের বৈশিষ্ট্যসমূহ
গ্রাম বাংলায় যুগোপযোগী আধুনিক শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে শান্তি মিশন ক্যাডেট একাডেমির একটি সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ। উদীয়মান কিছু শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবী এবং কিছু দক্ষ সংগঠকের সমন্বয়ে শান্তি মিশন ক্যাডেট একাডেমির অগ্রযাত্রা। স্কুলের একাডেমিক দিক পরিচালনার জন্য ন্যস্ত রয়েছেন একদল উদীয়মান সুশিক্ষিত ও দক্ষ শিক্ষক/শিক্ষিকা। পাশাপাশি প্রশাসনিক এবং নিরাপত্তার দিক দেখাশুনার জন্য রয়েছেন কিছু দক্ষ কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানের আরো অগ্রগতির লক্ষ্যে যুগোপযোগী ও আধুনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। অভিভাবকগণ প্রতিষ্ঠানের উপর যে আস্থা রেখেছেন তা কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে পালন করতে সর্বদা সচেষ্ট।
আমদের উদ্দেশ্য
একাডেমিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উদ্দেশ্য
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের পাঠ্যক্রম
শিক্ষার্থীর সামর্থ্য অনুযায়ী আধুনিক ও কার্যকর শিক্ষণ পদ্ধতি প্রয়োগ।
যুক্তি ভিত্তিক চিন্তা
মুখস্থ বিদ্যার বদলে শিশুদের মধ্যে সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা এবং সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা(Critial Thinking
হাতে-কলমে শিক্ষা
বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখার জন্য ‘হ্যান্ডস –অন লার্নিং’ বা এক্সপেরিয়েন্সিয়াল লার্নিং পদ্ধতি নিশ্চিত করা।
ব্যক্তিগত ও মানসিক বিকাশ
বহুমাত্রিক প্রতিভা বিকাশ
খেলাধুলা, চারুকলা, সংগীত এবং নাট্যচর্চার মাধ্যমে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটানো।
আত্নবিশ্বাস তৈরি
বিভিন্ন সহ-পাঠ্যগ্ক্রমিক কার্যক্রমের শিশুদের নেতৃত্বদানের গুণাবলী ও যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধি করা।
সুরক্ষিত পরিবেশ
শিশুদের বৈষম্যহীন, নিরাপদ, আনন্দময় এবং একটি সহিংসতামুক্ত শিক্ষার পরিবেশ প্রদান করা।
সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উদ্দেশ্য
বহুসংস্কৃতিবাদের চর্চা
বিভিন্ন দেশ,বর্ণ ও সংস্কৃতির মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সহনশীলতা তৈরি করা।
নৈতিকতা ও মুল্যবোধ
সততা, শৃঙ্খলা, শ্রমের মর্যাদা এবং মানবিক মূল্যবোধের উন্মেষ ঘটানো।
অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা
জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ বা কোনো শারীরিক সীমাবদ্ধতা নির্বিশেষে সকল শিশুকে একসাথে সমান সুযোগ দেয়া।
ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি ও প্রযুক্তি
ডিজিটাল দক্ষতা
আধুনিক প্রযুক্তি ও মানসন্মত ডিজিটাল শিক্ষা সমাধানের মাধ্যমে শিশুদের ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার উপযোগী করা।
ভাষাগত দক্ষতা
আন্তর্জাতিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ইংরেজী ভাষার পাশাপাশি একাধিক ভাষা সেখার সুযোগ রাখা।
টেকসই উন্নয়ন ভাবনা
জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা(SDG 4) অনুযায়ী পরিবেশ এবং বৈশ্বিক কল্যাণের প্রতি শিশুদের দায়িত্বশীল করে তোলা।
আমাদের স্বপ্ন
প্রতি শিশুকে নৈতিক, মননশীল,সৃজনশীল, কৌতূহলী, আত্নবিশ্বাসী ও বৈশিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা।
আমাদের লক্ষ্য
শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের দীক্ষিত করে একজন সচেতন, দক্ষ ও মানবিক গুণসম্পন্ন বিশ্ব নাগরিক ( Global Citizen) গড়ে তোলা।
কেন আমাদের বেছে নিবেন ?
ডিজিটাল লার্নিং
মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর এবং স্মার্ট ক্লাসরুমের সুবিধা
দক্ষ প্রশিক্ষিত শিক্ষক
আন্তর্জাতিক মানের প্রিস্কুলিং বিষয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শিক্ষক মন্ডলী।
নিরাপদ, আধুনিক ও প্রাকৃতিক ক্যাম্পাসঃ
প্রাচীর বেষ্ঠিত, প্রাকৃতিক পরিবেশ,সিসি ক্যমেরা দ্বারা সার্বক্ষনিক পর্যবেক্ষনের আওতায় এবং দুষণমুক্ত।
আন্তর্জাতিক মানের কারিকুলাম, কিন্তু বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ
খেলার ছলে শেখার( Play Based) আধুনিক ও বিশ্বমানের শিক্ষাদান পদ্ধতি, দেশীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির চর্চা।
শিটিং
শিক্ষার্থীদের জন্য বেঞ্চের পরিবর্তে লেখার সুবিধাসহ চেয়ার সিটিং
খেলার মাঠ ও ইনডোর গেমস
শিশুদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের সুপরিসরখেলার জায়গা এবং নিরাপদ রাইডস।
চেয়ারম্যানের বানী
জাতীয় উন্নয়নের পূর্বশর্ত হল শিক্ষা। শিক্ষার সার্বিক উন্নয়ন ব্যতীত জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব নয়। দেশ ও জাতি গঠনে চাই আলোকিত মানুষ। প্রকৃত জ্ঞানী ব্যক্তিরাই সমাজ তথা রাষ্ট্রের উন্নয়ন করে আপামর মানব সমাজের মঙ্গল করতে পারে। যথার্থ শিক্ষা প্রদান করা হলে প্রতিটি শিশু হয়ে উঠবে আগামী দিনের যোগ্য নাগরিক। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে শান্তি মিশন ক্যাডেট একাডেমির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শিক্ষার উন্নয়ন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এ ধারাবাহিক উন্নয়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠার পর থেকে মিশন ক্যাডেট একাডেমি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
শান্তি মিশন ক্যাডেট একাডেমির কার্যক্রমে নিয়োজিত আছেন একদল দক্ষ, উদ্যমী ও পরিশ্রমী শিক্ষক শিক্ষিকা। যাদের মেধায়, মননে সকল কাজের মূলে সব সময় থাকে তাদের শিক্ষার্থীদের উন্নয়ন ভাবনা। তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এরই মধ্যে শান্তি মিশন ক্যাডেট একাডেমি শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করছে, ভবিষ্যতেও এই সাফল্য অব্যাহত থাকবে ইন্শাআল্লাহ্।
চেয়ারম্যান
প্রধান শিক্ষকের বাণী
জাতির উন্নতির মাপকাঠি হল শিক্ষা। যে জাতি শিক্ষায় যত উন্নত সে জাতি তত সভ্য। সেই প্রাচীন কাল থেকে যুগে যুগে মনীষীগণ শিক্ষার উপর অপরিসীম গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। শিক্ষা অর্জন করতে হয় আর সে জন্য চাই একটি অনন্য সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠিত হয় শান্তি মিশন ক্যাডেট একাডেমি। শান্তি মিশন ক্যাডেট একাডেমি মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার সাথে সাথে অন্যান্য মানবিক গুণাবলীসহ তৈরি হবে প্রকৃত মানুষ। যে হবে আলোর দিশারী। অন্ধকারকে দূরীভূত করে জ্ঞানের মশালকে প্রজ্বলিত করবে। মিশন ক্যাডেট একাডেমি শিক্ষার্থীরা জ্ঞানের আলোকবর্তিকা জ্বালিয়ে সমাজ থেকে দূর করবে অজ্ঞতা, নিরক্ষরতা ও কুসংস্কার এই প্রত্যাশাই আমি করছি।
মোছাঃ সেলিনা খাতুন
প্রধান শিক্ষক